



‘সভ্যতা’ শব্দটির উচ্চারিত হলে যে কথাটা সবার আগে মনে আসে তা হল— ‘নদীমাতৃক’। জল ছাড়া মানবজাতির অস্তিত্ব কল্পনাই অসম্ভব। তাই সেই জলের উৎস অর্থাৎ জলধারাকেই আদিমানব সম্বোধন করেছে ‘মা’ বলে।
‘পারিজাত’-এর দ্বিতীয় বর্ষের শারদ-পত্রিকার বিষয় ‘নদী’। নদীই সভ্যতার আদি লগ্ন থেকে মানবজাতিকে লালন পালন করেছে সন্তানস্নেহে, ভরিয়ে দিয়েছে সবুজে শ্যামলে। কিন্তু প্রতিদানে সেই মানুষই তাকে ক্ষত বিক্ষত করেছে প্রতিনিয়ত। অবরুদ্ধ করেছে তার স্বচ্ছন্দ চলার গতি। তবে চঞ্চল স্রোতস্বিনীকে কি আর কৃত্রিম বন্ধনে আটকে রাখা যায়? যুগে যুগে তাই মমতাময়ী নদীই ধারণ করেছে প্রলয়ংকরী রূপ। ভারতের সিন্ধু থেকে নেপালের ভোটেকাশী— ইতিহাস পুনরাবৃত্ত হয় বারবার। তবুও আমরা আধুনিকতার চশমায় অন্ধ হয়ে থাকি!
ভারতীয় পুরাণে নদী রূপে বর্ণনা করা হয়েছে যে দেবীকে, তিনি সরস্বতী। ঋগ্বেদে উল্লেখ আছে যে, সরস্বতী নদী তখন বিপুল বেগে প্রবাহিত হত পাহাড় থেকে একেবারে সমুদ্র পর্যন্ত— “একাচেতৎ সরস্বতী নদীনাং/ শুচির্যতী গিরিভ্য আ সমুদ্রাৎ”। নদী বিষয়ে শারদীয়া ‘পারিজাত’-এর প্রচ্ছদের মূল চরিত্রও তাই দেবী সারদা। “ওম অম্বিতমে নদীতমে দেবীতমে সরস্বতী।”
---------------------
পারিজাত : শারদীয়া ১৪৩৩
মুদ্রিত মূল্য : ৩৫০.০০